আবাসন ঋণের সীমা এখন দ্বিগুণ, সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। বাসস্থান ও রিয়েল এস্টেট খাতে নির্মাণসামগ্রীর বর্তমান বাজারমূল্য সমন্বয় এবং বাড়তি আবাসন চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ভোক্তা অর্থায়ন সংক্রান্ত প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশনসের ২৩ নম্বর বিধি সংশোধন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর মোট হাউজিং ফাইন্যান্সের বিপরীতে শ্রেণিকৃত ঋণের হার কত শতাংশ তার ওপর ভিত্তি করে একক গ্রাহকের সর্বোচ্চ হাউজিং ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৫ শতাংশ বা কম হলে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা, ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশের কম বা সমান হলে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা এবং ১০ শতাংশের বেশি হলে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত হাউজিং ফাইন্যান্স অনুমোদন করা যাবে।
এছাড়া, হাউজিং ফাইন্যান্স প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০:৩০। অর্থাৎ, বাড়ি নির্মাণ বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেওয়া যাবে এবং বাকি ৩০ শতাংশ গ্রাহককে নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে, ঋণগ্রহীতার পর্যাপ্ত নিট আয় রয়েছে, যাতে তিনি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা BRPD সার্কুলার নং-০৭/২০০৪ ও পরবর্তী সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো এই নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে বাতিল করা হলো। তবে অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা বহাল থাকবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর (সংশোধিত) ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বাসস্থান/রিয়েল এস্টেট খাতে নির্মাণসামগ্রীর বর্তমান বাজারমূল্যের প্রতিফলন ঘটানো এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে, ভোক্তা অর্থায়ন সংক্রান্ত প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশনসের ২৩ নম্বর বিধি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এখন নিম্নরূপ হবে:
আবাসন ঋণের সীমা – বিধি ২৩:
ব্যাংকসমূহ তাদের মোট চলমান হাউজিং ফাইন্যান্সের বিপরীতে শ্রেণিকৃত (Classified) ঋণের হারের ভিত্তিতে নিম্নোক্ত সীমার মধ্যে হাউজিং ফাইন্যান্স অনুমোদন করবে:
| মোট হাউজিং ফাইন্যান্সে শ্রেণিকৃত ঋণের হার | একক গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ হাউজিং ফাইন্যান্স সীমা |
|---|---|
| ৫% বা তার কম | ৪ কোটি টাকা |
| ৫% এর বেশি কিন্তু ১০% এর কম বা সমান | ৩ কোটি টাকা |
| ১০% এর বেশি | ২ কোটি টাকা |
হাউজিং ফাইন্যান্স সুবিধা সর্বোচ্চ ৭০:৩০ ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাতে প্রদান করা যাবে। ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে, ঋণগ্রহীতার পর্যাপ্ত নিট নগদ প্রবাহ রয়েছে, যাতে নির্ধারিত পরিশোধ সূচি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে জারিকৃত BRPD সার্কুলার নং-০৭/২০০৪ এবং পরবর্তী সংশ্লিষ্ট সার্কুলার বা সার্কুলার লেটারসমূহ এই নির্দেশনার মাধ্যমে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর (সংশোধিত) ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে।
এই সার্কুলার অবিলম্বে কার্যকর হবে।
